কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিমপাড়া সড়কে দু’দিন ধরে পড়ে থাকা কালো রঙের টিআরএক্স নোহা মাইক্রোবাস ঘিরে এলাকাজুড়ে চলছে তুমুল জল্পনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৯৯৯-এ ফোন করে জানানো হলেও পুলিশ তৎক্ষণাৎ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি; বরং থানায় যোগাযোগ করলে একজনকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়। পরে ১২ আগস্ট সকালে প্রশাসনের অনুমতি দেখিয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারি সিন্ডিকেট গাড়িটি সরিয়ে নেয়। এ ঘটনাকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে কথিত ‘ইয়াবা লুট’ কাহিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল রাতে কুতুপালং পশ্চিমপাড়া এলাকায় দুই প্রভাবশালী স্থানীয় গ্রুপের বিরোধে হামলা ও ইয়াবা লুটের ঘটনা ঘটে। এক গ্রুপ অপর গ্রুপের উপর হামলা চালিয়ে রাতেই ইয়াবা লুট করে পালিয়ে যায়। এর আগে হামলাকারীরা কালো রঙের নোহা মাইক্রোবাসটির কাচ ভেঙে দেয়। লুট শেষে গাড়িটি রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তারা।
গাড়িটি এভাবে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯ এ ফোন করে উখিয়া থানা পুলিশকে অবগত করেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেয়। পরে পার্শ্ববর্তী বাড়ির মালিক হেলাল বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
জানা যায়, উখিয়া থানা থেকে বিষয়টি দেখার জন্য এসআই তপু বড়ুয়াকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে তপু বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনার ব্যাপারে জানেন না বলে দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ১২ আগস্ট সকালে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারি মামুন ও কুতুপালং বাজার কমিটির সভাপতি জানে আলম গাড়িটি নিয়ে যান। গাড়িটি চালিয়ে নেন মামুন। এই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং গাড়ি উদ্ধারের পরিবর্তে বেসরকারি হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে ৯৯৯-এ অভিযোগের পরও পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিল না কেন? গাড়িটি থানায় না এনে স্থানীয় প্রভাবশালীর হাতে গেল কীভাবে? গাড়িটির প্রকৃত মালিকানা, রেজিস্ট্রেশন ও ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আছে কি না,তা নিয়েও চলছে জল্পনা।
এলাকাবাসীর মতে, সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার ও মাদক বাণিজ্যকে ঘিরে এমন ‘লুট’এর ঘটনা নতুন নয়। স্থানীয়রা ঘটনার সঠিক তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

